KidsOut World Stories

গ্রন্থ রক্ষক Lisa Jones    
Previous page
Next page

গ্রন্থ রক্ষক

A free resource from

Begin reading

This story is available in:

 

 

 

 

গ্রন্থ রক্ষক

 

A stack of books

 

 

 

 

 

 

এই জগৎ সংসারে সান্তনুর তেমন কিছু ছিল না। তার নিজের বলতে কিছু জামাকাপড়, দু'জন সাদামাটা প্রশিক্ষক, কয়েকটা পেন, এবং একটি বই। একটি অচল বই।

মানুষ আর বই কিনত না। সালটি ছিল 2042 এবং সান্তনুর স্কুলের বাচ্ছারা, একটি বইকে বর্মের পোশাক বা একটি দুর্গের মতো প্রাচীন বলে মনে করত। সবার কাছে সবচেয়ে নতুন মোবাইল ফোন এবং ইলেকট্রনিক ট্যাবলেট ছিল। তাদের নিজেদের আই-বুক, ল্যাপটপ এবং কম্পিউটার ছিল। সান্তনুর এইসবের কোনোটাই ছিল না কারণ তার পরিবার গরীব ছিল। কেউ তাকে কল করত না কারণ তার কাছে ফোন ছিল না। কেউ তাকে ইমেইল করত না কারন তার কাছে কম্পিউটার ছিল না। এবং নিশ্চিতভাবেই তার ফেসবুক পেজ ছিল না। তার বন্ধুরা তাকে অদ্ভুত ভাবত এবং প্রায়শই তাকে উত্যক্ত করত এত কম যোগাযোগ থাকার জন্য।

কিন্তু তার বইটি ছিল তার সান্ত্বনা। এটি একটি খুব পুরোনো বই এবং বার্গান্ডি রঙের চামড়া দিয়ে মোড়া যার প্রান্তভাগটি পুরোনো। যখন সে এটি খুলত, পাতার থেকে একটি মজাদার গন্ধের মৃদু ঝাপটা বেড়িয়ে আসত। এটা পুরানো ও স্যাঁতসেঁতে এবং সামান্য কিছুটা গন্ধযুক্ত।

বইটার বিষয় কি ছিল শান্তনুর কাছে তা একটি রহস্য ছিল। সে প্রধানত এটিকে একটি নোটবুক হিসাবে ব্যবহার করত, মার্জিনের মধ্যে গল্পের ধারণা, বা তার বন্ধুদের ফোন নম্বর এবং ই-মেইল-এর ঠিকানা লিখে রাখত। যদি কোনোদিন তাদেরকে প্রয়োজন হয় তার জন্য। সে প্রতি পৃষ্ঠার অদ্ভুত লেখায় সেরকম মনোযোগ দিত না। ভাষাটি তার নিজের দেশের ছিল, এমন কোথাও সে মনে করতে পারছিল না। সে জানতো ভাষাটি বাংলা ছিল, এবং তার পিতা-মাতার সাথে বাংলা বলতে পারত কারণ তারা তাঁকে ছোটবেলায় শিখিযে ছিল। কিন্তু সে এটা পড়তে পারত না। পাতার শব্দগুলি অদ্ভুত এবং বিদেশী লাগত।

বন্যার পর তারা ব্রিটেন-এ চলে আসে- সান্তনু এবং তার বাবা ও মা। কিন্তু তা অনেক বছর আগে, যখন সে নাবালক ছিল। তার মা তাকে বাংলাদেশের সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে সব বলেছিলেন। সব জায়গা জলময় হয়েছিল। এতে ফসল ডুবে গিয়েছিল এবং অনেক লোককে ভাসিয়ে নিয়ে গেছিল। তার পরিবার একদম অল্প পরিমাণ খাদ্য নিয়ে তাদের বাড়ির ছাদে বসে বেঁচে গেছিল। উদ্ধার হওয়ার আগে তারা পুরো চার দিনের জন্য সেখানে বসেছিলেন।

তার বাবা-মা সর্বস্ব হারিয়েছিলেন এবং তারা এরকম ঝুঁকি আর নিতে পারতেন না। এবং তাই, পরিবার ও বন্ধুদের থেকে কিছু সাহায্য নিয়ে, তারা বিশ্বের মধ্যে ইংল্যান্ডে তাদের পথ তৈরি করে।

এই যাত্রায় অনেক সপ্তাহ লেগেছিল। তার মা প্রায়ই সান্তনুকে বলত কিভাবে তারা অনেক মুরগি ও খাঁচায় থাকা দুঃখি দেখতে একটি বাঘের সাথে একটি ট্রাকে করে যাত্রা করেছিলেন। এছাড়াও বাসস্থান হাড়ানো বয়স্ক মানুষ ভর্তি বাসেও তারা যাত্রা করেছিল। এবং সব কিছুর শেষে, একটি বিশাল জেট বিমানে যা মহাসাগরের ওপর দিয়ে তাদের নিয়ে যায়। বিমান যাত্রাটি হল সবথেকে বেশি ভয়ের ছিল তার মা বলেছিল। এটা এপাশ ওপাশ করছিল এবং উল্টাচ্ছিল। এটা কোলাহলপূর্ণ ছিল এবং বাচ্ছা শান্তনুকে পুরো সময় কাঁদতে বাধ্য করছিল।

যখন তারা পৌছায় তাদের কাছে সেরকম কিছুই ছিল না। তাদের কাছে যা টাকা ছিল তার সবই বন্যার থেকে পালিয়ে আসতে ব্যবহার হয়ে গিয়েছিল। তাঁর বাবা একজন ওয়েটার হিসেবে কাজ করতেন, তার মা একটি আংশিক সময়ের ক্লিনার ছিলেন। বাংলাদেশে তারা সফল চাষী এবং ব্যবসায়ী ছিল, কিন্তু ব্রিটেনে ভালো চাকরি খুজে পাওয়া কঠিন।

ব্যস্ত প্রধান রাস্তার অপরিষ্কার একটা দোকানের উপরে তাদের সামান্য ফ্ল্যাটে, তাদের একটি ডিজিটাল টেলিভিশন ছিল কিন্তু কোন এইচডি বা ওয়াইডস্ক্রিন ছিল না। সান্তনু স্কুলে কম্পিউটার ব্যবহার করত, কিন্তু বাড়িতে শুধুমাত্র তার বই-ই তার বিনোদনের বস্তু ছিল।

 তার প্রিয় বন্ধু ক্রিস্টালও খুব গরীব ছিল। কিন্তু তারও মোবাইল ফোন ছিল। সে সান্তনুর বইটি পছন্দ করত এবং প্রায়ই তার সাথে এটার মধ্যে গল্প লিখত। তার সব পাসওয়ার্ড কোথাও রাখার ছিল না তাই সে সান্তনুর বইতে সব লিখে রাখত। কেউ সেগুলো সেখানে খুঁজে পেত না।

সে রোজ দশ মিনিট হেঁটে স্কুলে যেত। বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীদের বাবা-মায়েরা হুভার গাড়িতে করে বা কোনো ইলেকট্রনিক বাসে করে স্কুলে ছেড়ে দিয়ে যায়। কিন্তু সান্তনু সবসময় হেটে যায়।

একটি রোদ ঝলমলে দিনে, বাচ্ছারা খেলার মাঠে তাদের মুখে খুব সন্ত্রস্তভাব নিয়ে অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি জোরে একসঙ্গে কথা বলছিল। তাদের হাতে তাদের ফোন ছিল এবং তারা সবাই কল বা টেক্সট করার চেষ্টা করছিল, কিন্তু মনে হচ্ছিল সেটা কাজ করছিল না। সবমিলিয়ে এটা স্পষ্ট হচ্ছিল কেন।

প্রধানশিক্ষক, মিঃ উইলিযামকে ভয়াতুর দেখাচ্ছিল যেভাবে তিনি বাচ্ছাদের কি ঘটেছে বলছিল।
‘এখন আমি জানি তোমরা সবাই খুব উদ্বিগ্ন হযে আছ’, তিনি বললেন, ‘কিন্তু আমাদের শান্ত হতে হবে’। সেখানে মনে হচ্ছে একটি বৈদ্যুতিক সমস্যা হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং এটা আমাদের সবার জন্য প্রবঞ্চনাপূর্ণ হতে চলেছে, কিন্তু আমাদের শান্ত থাকতে হবে এবং আমরা যা করতে যাচ্ছি করতে হবে।

2042 সালে প্রায় সবকিছুই ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। কোনো কিছুই ধরা-ছোঁয়ার মধ্যে নয়। আপনি তথ্য স্পর্শ করতে পারবেন না সান্তনুর বইয়ের মতো। সবকিছু ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল: লাইটের সুইচ, টেলিভিশান, মোবাইল ফোন এবং কম্পিউটার। এবং এখন কিছু কাজ করছে না!

বাচ্ছারা হৈচৈ এবং বিশৃঙ্খলতা বাড়ালো। তারা ভীত ছিল। আগে এরকম কিছু কোনোদিনও হয়নি। তারা কিভাবে যোগাযোগ করবে? তারা তাদের অবসর সময় কী করবে? টেলিভিশান, কম্পিউটার গেমস্ এবং ই-মেইল আসার আগে কী করত?

যদিও তিনি সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন, বাচ্ছারাও বলতে পারত এমনকি মিঃ উইলিয়ামও ভয়াতুর হয়েছিল। অবশেষে সম্পূর্ণ বুদ্ধিভ্রষ্টের মতো অ্যাসেম্বলি থেকে বেড়িয়ে যাওয়া পর্যন্ত সে তার নিজের ফোন নিয়ে বৃথা সময় নষ্ট করছিলেন।

ঘন্টা বাজল এবং তখনও অস্থির ও আতঙ্কিত হয়ে বাচ্ছারা একসঙ্গে তাদের ক্লাসে যেতে লাগল। হোয়াইটবোর্ডগুলো কাজ করছিল না। কম্পিউটারগুলো কাজ করছিল না। পরিবর্তে শিক্ষকরা বাচ্চাদের তাদের হাতের লেখার দক্ষতা অনুশীলন করাতে চেষ্টা করছিল কিন্তু তারা সবাই লেখায় ভয়ানক। কেউ আর পেন ব্যবহার করত না! তবে এটা বিরল আচরণ ছিল সান্তনুর জন্য যার হাতের লেখা ভালোভাবে অনুশীলন করা ছিল এবং পরিষ্কার ছিল।

একদিন থেকে আরেক দিন হতে লাগল। কেউ জানত না কম্পিউটার কখন ফিরে আসবে। বাবা-মায়েরা বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিল তাদের বিরক্তিকর বাচ্চাদের নিয়ে কারণ তারা টেলিভিশান প্রোগ্রাম এবং কম্পিউটার গেম ও মোবাইল ফোন নিয়ে অন্যমনস্ক হচ্ছিল না। বাচ্চারা জানত না তারা নিজেদের নিয়ে কী করবে। তারা রাস্তায় বেড়িয়ে যেত কিন্তু তারা জানত না তাদের বন্ধুরা কোথায় থাকে কারণ তারা সবসময় শুধুমাত্র ফোনের মাধ্যমে কথা বলত।

অবশেষে স্কুলে বলাবলি হতে লাগল যে সান্তনুর কাছে তার ছোট বই-এ নাম, ঠিকানা ও ফোন নাম্বারের তথ্যের এনসাইক্লোপিডিয়া আছে। একদিন, কাই নামের একজন বড় ছেলে সান্তনুর বাড়িতে আসে এবং বন্ধুদের ঠিকানা জানতে চায় যা নিখুঁতভাবে তার বইয়ের কভারের মধ্যে নোট করা ছিল। সান্তনু ছেলেটাকে ঠিকানাটা দিতে রাজি হয় যদি সে তাকে তার সঙ্গে নিয়ে যায় এবং খেলে। এইভাবেই এটা শুরু হয়। এইভাবেই সান্তনু অনেক নতুন বন্ধুদের সাথে দেখা করে এবং তাদের সবার জন্য নতুন খেলা তৈরি করে দিত। সে মুখোমুখি খেলা উপভোগ করত। সে কম্পিউটারের পরিবর্তে বাস্তব জগৎ-টাকে উপভোগ করত।

তার বই ছিল সব বাচ্চাদের কাছে পরিতৃপ্তির একটি উৎস। তাদের ফোন এবং স্ক্রিন, একসময় রঙ ও তথ্যে পরিপূর্ণ ছিল, এখন বিশ্বের কাছে তা শূন্য-মৃত। টেলিভিশান এবং কম্পিউটারের স্ক্রিন একগুঁয়ে অনুজ্জ্বল ধুসর হয়েছিল। এবং এখন বই বিশেষ দরকারী! এটি নাম এবং ঠিকানা, খেলার পরিকল্পনায় ভর্তি যা সান্তনু অনেক বছর ধরে বানিয়েছিল, গল্পে ভর্তি যা সে তৈরি করে ছিল এবং এখন তার বন্ধুদের পড়ে শোনায়।

একদিন, সব বাচ্চারা শহরের লোকবসতিহীন অংশে খেলছিল এমন সময় বৃষ্টি শুরু হয়। একটি বড় কমলা রঙের ইঁটের বাড়ির দরজার দিকে সবাই আশ্রয়ের জন্য ছুটে যায়। বৃষ্টির থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে একে একে দরজার বিপরীতে ভীড় করতে থাকে, যতক্ষন না একটি ভয়ানক ক্যাঁচক্যাঁচে আওয়াজ হয় এবং দরজাটি ভিতরের দিকে গর্ত হয়ে যায় একটির ওপরে আরেকটি বিশাল বান্ডিল পড়ে যাতে বাচ্চারা ভিতরে ঢুকে যায়।

বাড়িটি উঁচু সিলিং-এর সঙ্গে ভিতর দিকটা অন্ধকার ছিল। এটা ধুলো ও মাকড়শার জালে ভর্তি ছিল, এবং এতটাই অন্ধকার ছিল যে ছায়ার মধ্যে অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। জায়গাটা ছাতাপড়া ও পুরোনো গন্ধযুক্ত ছিল।

সান্তনুই প্রথমে এগিয়ে গেল। সে তার চোখ রগড়ালো এবং চারিদিক দেখল। ‘বই! এইসব বইগুলো দেখ!’ সে চিৎকার করল। ‘এই জায়গাটা কী?’

‘আমি জানি না’ তার বন্ধু ক্রীস্টাল উত্তর দিল। ‘এটা একটা পুরোনো বাড়ির মতো।’

ঘরটার কেন্দ্রে একটা বিশাল ডেস্ক ছিল এবং ডেস্কটার ওপরে একটা সাইনবোর্ড ছিল। এটায় বলাছিল ‘রিটার্নস্ অ্যান্ড ইসুয়িং ডেস্ক’ তার ওপরে এর থেকেও বড় একটি সাইনবোর্ড সিলিং থেকে ঝুলছিল। এটায় বলাছিল ‘পাবলিক লাইব্রেরি’।

বাচ্চাদের মধ্যে কেউই জানত না লাইব্রেরি কথাটির মানে কী কিন্তু সেটায় কোনো সমস্যা ছিল ন। সান্তনু নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। সে সব বইয়ের মূল অংশটি ধরে করিডোরের নিচের দিকে দেখল। এটা যেন একটা নিষিদ্ধ রাজপ্রাসাদ, একটা গোপন স্থান যার সম্পর্কে শুধুমাত্র বাচ্চারাই জানে।

যত সপ্তাহটি অতিবাহিত হতে লাগল, তত বেশি বাচ্চারা স্কুলের পর লাইব্রেরিতে আসতে লাগল। তারা একে ওপরকে পরে শোনাতো বা কম্বলের ভিতরে কুঁকড়িয়ে ধীরে ধীরে পড়ত। তারা দাবা খেলত, লুকোচুরি খেলত এবং নিজেরাই গল্প বানাত।

সান্তনু ঘুরে ঘুরে প্রত্যেক বইয়ের কয়েকটা বাক্য পড়তে পছন্দ করত। সে দ্য হিস্ট্রি অফ্ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন 100 অবজেক্টস্, আ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম,1000 লিগস্ আন্ডার দ্য সি, এবং থোমাস দ্য ট্যাঙ্ক ইঞ্জিন-এর কিছুটা পড়েছিল। যাই সে তার হাতে পেত তাই পড়তো।

সে যখন থোমাসের বইটা বাচ্চাদের বিভাগের সেল্ফ-এ রাখতে যাচ্ছিল সে তার বাড়ির নিজের বইটার মতো চামড়ার আবরণে মোড়া বইটি দেখতে পেল। এটি ইংরাজি ভাষায় লেখা ছিল তাছাড়া সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিলে যাচ্ছিল। সবশেষে সে জানতে পারল তার বইটির বিষয় কী ছিল। এটিকে মাটিল্ডা বলা হত এবং রোয়াল্ড ডেল নামের একজন এটি লিখেছিলেন। এটা একটা ছোট মেয়ের গল্প যে পড়তে ভালোবাসত এবং সান্তনু যতক্ষন না শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পৌছালো বইটি রাখল না। সে ভাবল এটা সবথেকে চমৎকার, রসালো এবং দুষ্টুমিপূর্ণ বই যা সে আগে কখনো পড়েনি।

সে মাটিল্ডার ইংরাজী সংকলনটার সঙ্গে বাংলা সংকলনটার তুলনা করল যেটা সে এতোদিন ধরে নিজের কাছে রেখেছিল। সে বারবার বইটি পড়তে লাগল, এবং খুব ধীরে ধীরে বাংলা লেখা বুঝতে লাগল। সে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইব্রেরিতে কাটাতে লাগল, নিজেই এক কোনে পড়ে থাকত, যতদিন না সে বাংলা স্ক্রিপ্টের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হল সে দুটি লেখার তুলনা করতে পারে। এছাড়াও লাইব্রেরির এডুকেশান বিভাগে সে আরেকটি বই খুঁজে পেয়েছিল যা তাকে বাংলা ভাষা আরো ভলো করে শিখতে সাহায়্য করেছিল।

এক শনিবার, সকালের শেষে সান্তনু লাইব্রেরিতে পৌছালো, সে লক্ষ্য করল কতটা নিশব্দ ছিল জায়গাটা। সেখানে কোনো বাচ্চা ছিল না। সে ভাবল তারা বড়দের কাছে ধরা পড়ে গেছে এবং বিতারিত হয়েছে কিনা। তখন ক্রিস্টাল নম্রভাবে ট্রাভেল বিভাগের পিছন থেকে বেড়িযে আসল।

‘তারা সমস্যাটি ঠিক করতে পেরেছে’, সে বলল। কম্পিউটার ও ইন্টারনেট আবার কাজ করছে। সবাই বাড়ি চলে গেছে।’

সে সান্তনুকে তার পাসওয়ার্ডটি জিজ্ঞেস করল এবং বিনা সংকোচে সান্তনুকে সব বইগুলোর সঙ্গে একা ফেলে বাইরে চলে গেল।

তরুন ছেলেটি লাইন করা বইয়ের তাকের সারি থেকে শুরু করল। সে সব বইয়ের মধ্যেকার গল্পগুলোকে ভাবতে লাগল এবং এটা ভেবে কষ্ট পেল যে এই বইগুলো আর কেউ সময় দিয়ে পড়বে না। কিন্তু তারপর সে নিজের ওপর হাসল এবং কাছের তাক থেকে একটি বই নিল ও লাইব্রেরিতে তার প্রিয় কোনায় কম্বলের মধ্যে কুঁকড়ে থাকল। বইটির নাম ছিল দ্য হ্যাবিট এবং সান্তনু নিশ্চিত ছিল এটা পড়তে দারুন লাগবে।

Enjoyed this story?
Find out more here