KidsOut World Stories

বুড়ো আঙ্গুল আলী    
Previous page
Next page

বুড়ো আঙ্গুল আলী

A free resource from

Begin reading

This story is available in:

 

 

 

 

বুড়ো আঙ্গুল আলী

তুর্কি গল্প

 

button

 

*

 

 

 

 

একসময় এক দম্পতির একটি ছেলে ছিল, যাকে তারা আলী বলে ডাকত।

ছেলেটি তার পিতামাতার কাছে বিস্ময়ের কারন হয়ে দাড়িয়েছিল, কারণ যখন সে জন্মগ্রহণ করেছিল তখন সে একটি বুড়ো আঙ্গুলের চেয়ে বড় ছিল না!

মা বাবা দুজনেই প্রথমে খুব বিরক্ত হয়েছিলেন, কিন্তু তারপর তারা মনে মনে ভাবল,

'এটাই ঈশ্বর আমাদের দিয়েছেন, আর একদিন আমাদের ছেলে বড় হয়ে শক্তিশালী ছেলে হবে।'

কিন্তু বছরের পর বছর চলে গেল এবং আলী মোটেই বেড়ে ওঠেনি। সে বুড়ো আঙুলের মত ছোট ছিল।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় ডিনারের সময়, মা তার ছেলের জন্য টেবিলে একটি জায়গা সেট করতেন।

তিনি তার সামনে একটি ছোট প্লেট রাখতেন এবং এটি স্যুপ ভর্তি এক চা চামচ দিয়ে পূর্ণ করতেন।

আলীর কাছে একটি ছোট কাপও ছিল যা তার মা এক ফোঁটা পানি দিয়ে ভর্তি করেছিলেন।

পরিবার যখন বাড়িতে ছিল তখন সবকিছু ঠিক ছিল, কিন্তু মা বাবা তাদের ছেলের জন্য লজ্জিত ছিলেন, এই ভেবে যে তাকে কেউ দেখলে তারা ছেলেটিকে উত্যক্ত করবে। তাই তারা তাকে ঘরের ভিতরে রাখত, সমসময়সে দৃষ্টির আড়ালে থাকত।

আরও অনেক বছর চলে গেল এবং শেষে আলী তার বিশতম জন্মদিন উদযাপন করে।

সে তখনও একটি বুড়ো আঙ্গুলের মত ছোট ছিল, কিন্তু তার কণ্ঠস্বর খুব গভীর এবং খুব জোরে বেড়ে উঠেছিল।

প্রকৃতপক্ষে, যদি কেউ কখনও তাদের ছেলের কথা শুনতে পায়, তবে তারা মনে করবে যে এটি কোন দৈত্যাকার মানুষের কণ্ঠস্বর।

আলী একজন অত্যন্ত দুঃখী যুবক ছিল কারণ তার কোন বন্ধু ছিল না এবং তাকে তার সমস্ত সময় তার পিতামাতার বাড়ির ভিতরে লুকিয়ে কাটাতে হয়েছিল।

একদিন, আলীর বাবা পাশের শহরের বাজারে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। বৃদ্ধ লোকটি একটি হোটেলে রাত কাটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন কারণ তিনি সেখানে সফর করতে সক্ষম হবেন না এবং রাতের আগে ফিরে আসতে পারবেন না।

আলী তার বাবার কাছে তাকে সফরে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল, কিন্তু তার বাবা এই আইডিয়াটি নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন।

'তিনি বলেন, 'আমরা আজ পর্যন্ত তোমাকে কখনও বাইরে নিয়ে যাইনি এবং আমি নিশ্চিত নই যে আমি এখন এটি করতে পারি। আমি কিভাবে তোমাকে রক্ষা করতে পারি এবং অন্য লোকেদের কাছ থেকে তোমাকে লুকিয়ে রাখতে পারি?'

'এটা সহজ হবে,' আলী তার গভীর, 'প্রস্ফুটিত কণ্ঠে উত্তর দিল। আপনি আমাকে আপনার পকেটে রাখতে পারেন এবং কেউ কখনও জানতে পারবে না যে আমি সেখানে আছি। আপনি পকেটের ভিতর একটি ছোট ছিদ্র তৈরি করতে পারেন যাতে আমি শ্বাস নিতে পারি এবং যাতে আমি কি ঘটছে তা দেখতে পারি এবং দুনিয়ার সমস্ত নতুন দর্শনীয় স্থান উপভোগ করতে পারি।'

আলীর বাবা বুঝতে পেরেছিলেন যে আলী বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার আইডিয়ায় কতটা উত্তেজিত ছিল এবং এই কারণে তিনি তার একমাত্র ছেলেকে না বলা অসম্ভব বলে মনে করেছিলেন।

বৃদ্ধ লোকটি তার শার্টের পকেটে একটি খুব ছোট ছিদ্র তৈরি করে এবং আলীকে ভিতরে উঠতে সহায়তা করলেন।।

মা সফরের জন্য ব্যাগগুলো তাদের হাতে দিয়েছিলেন এবং তাদের উভয়কে চুম্বন করেছিলেন এবং তাদের শুভকামনা জানিয়েছিলেন। এরপর আলী ও তার বাবা পার্শ্ববর্তী শহরের বাজারের দিকে রওনা দিল।

সারাদিন সফরের পর রাস্তার পাশে হোটেলে আসে আলী ও তাঁর বাবা।

বাবা বললেন, 'আমরা রাতের জন্য এখানে একটি ঘর পাব, এবং আগামীকাল আমরা বাড়ি ফিরে যাবার আগে খুব সকালে বাজারে যাব।'

'আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমি একটি হোটেলে থাকতে পারি!' আলী চিৎকার করে বলল।

কমবয়সী ছেলেটি খুব উত্তেজিত ছিল কারণ সে ইতিমধ্যে তার যাত্রায় অনেক কিছু দেখেছিল এবং সে কখনও তার বাড়ি ছাড়া অন্য কোথাও ঘুমায়নি।

আলীর বাবা একটি ঘরের জন্য টাকা দিলেন এবং রাতের খাবারের প্রস্তুতির জন্য সিঁড়ি দিয়ে তার ব্যাগগুলো নিয়ে গেলেন।

বৃদ্ধ লোকটি প্যাক খুলে এবং ধুয়ে ফেলার পরে, এবং আলীকে তখনও পকেটে লুকিয়ে রেখে, তিনি ডাইনিং রুমে গিয়েছিলেন এই আশায় যে তিনিও তার ছোট ছেলের জন্য কিছু খাবার লুকিয়ে রাখবেন।

তারপরই ঘটে গেল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। অতিথিরা সবাই যখন রাতের খাবারের জন্য বসে ছিলেন, ঠিক তখনই একদল চোর হোটেলে ঢুকল।।

সব মিলিয়ে তিনজন,নিকৃষ্ট চেহারার পুরুষ বন্দুক তাক করে নির্দেশ দিয়েছিল যে প্রত্যেক পুরুষ ও মহিলাকে তাদের অর্থ এবং তাদের কাছে থাকা মূল্যবান জিনিসগুলো দিয়ে দিতে হবে।

আলীর বাবা সহ সমস্ত অতিথিরা খুব ভয় পেয়েছিল, কিন্তু তারা তাদের যা বলা হয়েছিল তা তারা করেছিল এবং  তাদের মানিব্যাগ এবং গহনাগুলো টেবিলে রাখতে শুরু করেছিল।

হঠাৎ করে, কোথাও থেকে খুব জোরে এবং খুব গভীর কণ্ঠস্বর শোনা গেল।

'তোমাদের বন্দুক ফেলে দাও!' কন্ঠস্বরটি আদেশ করল। আমি এখানে আসছি এবং আমি তোমাদের ধরতে আসছি এবং তোমাদের পুলিশের হাতে তুলে দেব।

কেউ জানত না কণ্ঠস্বরটি কোথা থেকে আসছে। চোরেরা ডাইনিং রুমের চারিদিকে তাকাল কিন্তু কাউকে খুঁজে পেল না।

তারপর আবার আওয়াজ এল, এবার আরও জোরে। 'আমি তোমাদের খারাপ কাজের শাস্তি দেব। আমি নিশ্চিত করব যে তোমরা অনেক বছর জেলে কাটাবে।'

যেহেতু চোরেরা বলতে পারছিল না যে কণ্ঠস্বরটি কোথা থেকে আসছে, তাই তারা বিশ্বাস করেছিল যে এটি অবশ্যই ভূতের কাজ।

আর যদি কোন কিছু থেকে থাকে চোররা পুলিশের থেকেও বেশি ভয় পায়, সেটা হল ভূত।

হঠাৎ করেই, চোরেরা তাদের বন্দুক ফেলে হোটেল থেকে পালিয়ে যায় এবং রাতের অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে যায়।

ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার পর অতিথিরা খুশি হলেও তারাও ভূতের ভয়ে তাদের ঘরে পালিয়ে লুকিয়ে যেতে চাইল।

'চিন্তা করবেন না,' আলীর বাবা বললেন। 'এটা কোনো ভূত নয় যে কথা বলছে। সে আমার ছেলে।'

আর তা দিয়েই বৃদ্ধ লোকটি পকেটে হাত ঢোকালেন যাতে আলী তার হাতে উঠে আসতে পারে। তারপর তিনি আলীকে আলতো করে টেবিলের উপর বসিয়ে দিলেন যাতে অতিথিরা সবাই হ্যালো বলতে পারে।

'আমি নিশ্চিত ডাকাতরা আর ফিরে আসবে না,' আলী তার গভীর, প্রস্ফুটিত কণ্ঠে বলল, এই অ্যাডভেঞ্চারের কারণে তার মুখে হাসি।

অতিথিরা খুব অবাক হয়েছিল এবং এমন একটি ছেলের সাথে দেখা করার জন্য খুব কৌতূহলী ছিল যে একটি বুড়ো আঙুলের চেয়ে বড় ছিল না।

কিন্তু যে কোন কিছুর চেয়েও বেশি, চোরদের হাত থেকে তাদের বাঁচানোর জন্য তারা সবাই আলীর কাছে খুব কৃতজ্ঞ ছিল, এবং তারা তাকে ধন্যবাদ জানাযল এবং তার হাত নেড়ে তার বাবাকে বলে যে এমন সাহসী ছেলে পেয়ে সে কতটা গর্বিত।

সকালে, তারা যখন হোটেল থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হল, আলীর বাবা তার ছোট ছেলেকে তার পকেট থেকে বের করে কাঁধে তুলে নিলেন।

সারা সকাল বাজারে, তারপর বাড়ি ফেরার পথে পথচারীদের সঙ্গে আলীর পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য বৃদ্ধকে অনেক বার থামতে হল। এবং তিনি খুব গর্বিত ছিলেন এবং তাদের সবাইকে বলেছিলেন যে কিভাবে তার ছেলে তিনটি চোরের হাত থেকে সবাইকে বাঁচিয়েছিল।

সেদিন সন্ধ্যায় যখন বাবা ও ছেলে বাড়ি ফিরে আসে, তখন আলীর মা খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন যে আলী তার স্বামীর কাঁধে বসে আছে।

'যদি কেউ তাকে দেখতে পায় তবে কি হবে?' সে তার স্বামীকে জিজ্ঞাসা করল।

কিন্তু বৃদ্ধ লোকটি হাসলেন এবং তার স্ত্রীকে ব্যাখ্যা করলেন যে তাদের দুজনের হোটেলে কি কি দুঃসাহসিক কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছিল   এবং কিভাবে আলী সেদিন রক্ষা করেছিল এবং চোরদের ভয় দেখিয়েছিল।

'আমাদের ছেলের জন্য লজ্জিত হওয়াটা খুব বড় ভুল ছিল। আমাদের এত বছর ধরে তাকে ঘরে লুকিয়ে রাখা উচিত হয়নি। আলী এবং সে যা করতে সক্ষম তার জন্য আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত।'

আলীর মা তার ছেলের সাহসিকতার গল্প শুনে সত্যিই খুব গর্বিত হয়েছিলেন এবং প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে তাকে আর কখনও লুকিয়ে রাখবেন না বা তার জন্য লজ্জিত হবেন না।

সেই দিন থেকে, বুড়ো আঙ্গুল আলী সমসময়সবসময় তার পিতামাতার কাঁধে সফর করেছে যেখানেই তারা যান না কেন, এবং সে অনেক কিছু দেখেছে এবং অনেক অ্যাডভেঞ্চার করেছে।

Enjoyed this story?
Find out more here