
*
কার্মেন ছিল দশ বছরের এক বাচ্চা মেয়ে, যে স্পেনের উত্তরে একটি ছোট্ট গ্রামে থাকতো।
তার বাবা মায়ের একটি গরুর খামার ছিল। সেখান থেকে বেশ ভালো দুধ পাওয়া যেতো। কখনো কখনো গরুগুলো এতো বেশি দুধ দিত যে পুরো পরিবার তা পান করে শেষ করতে পারতো না।

তারা তখন তা প্রতিবেশীদের, বিশেষত যাদের প্রয়োজন ছিল বেশি, তাদের দিয়ে দিতো।
একদিন কার্মেনের বাবা তাকে মিসেস জুলিয়ার কাছে একটু দুধ নিয়ে যেতে বললেন। মিসেস জুলিয়া ছিলেন একজন মিষ্টি বৃদ্ধা, যিনি গ্রামের অপর প্রান্তে থাকতেন।
যাবার পথে কার্মেন দুধ বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে ডিম কেনার কথা ভাবা শুরু করলো।

সেই ডিমগুলো থেকে সে মুরগির বাচ্চা পাবে, যেগুলো তাড়াতাড়ি বড় হয়ে আরো ডিম দেবে।
তারপর কিছু বাছুর আর ভেড়া কিনবার মতো টাকা না হওয়া পর্যন্ত সে ডিম বিক্রি করে যাবে।
বছর দুয়েকের ভেতর কার্মেন তার নিজের খামারের মালিক হয়ে যেতে পারবে।
মাদ্রিদে একটি বাড়ি এবং অনেক চমৎকার জামা কেনার মতো যথেষ্ট টাকা থাকবে তখন তার কাছে।
কার্মেন তার ভাবনায় এতো ব্যস্ত ছিল যে, সে তার পথে থাকা একটি বিরাট পাথর দেখতে পেল না। সে পাথরটির ওপর হোঁচট খেয়ে পড়লো। ধূলিময় জমিতে সমস্ত দুধ পড়ে গেল।

কার্মেনের খামারী হবার স্বপ্ন সেকেন্ডেই গায়েব হয়ে গেল। বিক্রি করবার মতো তার আছে আর দুধ রইলো না। ডিম কিনে মুরগির বাচ্চা ফোটানোর মতো টাকাও তার আর হবে না। তার সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেল।
কার্মেনের খুব মন খারাপ করলো। সে কাঁদতে শুরু করলো।
বাড়ি ফিরে আসবার সময় কার্মেন ভাবছিল যে তার পথের পাথরগুলো দেখে চলা উচিত ছিল। তার পরিকল্পনাগুলো নিয়ে ভাবায় তার এতোটা ব্যস্ত হওয়া উচিত ছিল না।
কার্মেন শিখতে পারলো যে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আমাদের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হলো আমাদের পথের বাধাগুলো জয় করে নেয়া।
