KidsOut World Stories

কেন আনান্সির আটটা সরু পা আছে Farida Salifu    
Previous page
Next page

কেন আনান্সির আটটা সরু পা আছে

A free resource from

Begin reading

This story is available in:

 

 

 

 

কেন আনান্সির আটটা সরু  পা আছে

একটি আকান গল্প 

 

 

 

 

 

 

*

অনেককাল আগে আনান্সি নামে এক মাকড়সা বাস করতো। আনান্সির স্ত্রী খুব ভালো রাঁধুনি হওয়া সত্ত্বেও লোভী মাকড়সা আনান্সি অন্য লোকের  খাবার খেতে খুব ভালোবাসতো। 

একদিন আনান্সি তার বন্ধু খরগোশের সাথে দেখা করতে গেল। 

রান্নাঘরে ঢুকতে ঢুকতে লোভী মাকড়সা বললো, “হুমমম! তুমি খুব অসাধারণ সবজি রান্না করছো, খরগোশ।” 

বন্ধু খরগোশ বললো, “রাতের খাবার পর্যন্ত থেকেই যাওনা কেন? সবজিগুলো এখনও রান্না হয়নি, তবে এখনই  হয়ে যাবে।”  

আনান্সি জানতো যে, সে যদি রান্না হবার জন্য অপেক্ষা করে, তাহলে খরগোশ তাকে অবশ্যই কাজ দেবে, আর লোভী মাকড়সা তো কাজ করবার জন্য বন্ধুর কাছে বেড়াতে আসেনি। 

তাই আনান্সি খরগোশকে বললো, “ক্ষমা করো, প্রিয় বন্ধু, কিন্তু আমাকে এখনি একটু কাজে যেতে  হবে। কেমন হয় যদি আমি এক লম্বা জাল বানাই আর তার এক প্রান্ত আমার পায়ের সাথে আর আরেক প্রান্ত তোমার রান্নার পাত্রের চারদিকে জড়িয়ে নিই? তাহলে যখন সবজি রান্না হয়ে যাবে, তখন তুমি জালে টান দিতে পারবে আর আমি রাতের খাবারের জন্য দৌড়ে চলে আসবো।”

খরগোশ রাজি হয়ে গেলো, এটাতো বেশ  ভালো একটা বুদ্ধি, আর তাই সে আনান্সির জালের এক প্রান্ত তার পাত্রের চারদিকে বেঁধে বন্ধুকে বিদায় জানালো। 

কিছুক্ষণ পর লোভী মাকড়শা তার ভালো বন্ধু বানরের বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। এবং দেখা গেল যে বানরও তার রাতের খাবার তৈরির মাঝ পর্যায় রয়েছে। 

রান্নাঘরে ঢুকতে ঢুকতে লোভী মাকড়শা বললো, “হুম, অসাধারণ শিম আর মধু রান্না করছো, বানর।” 

বন্ধু বানর বললো, “খাবার রান্না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে রাতের  খাবারটা খেয়েই  যাওনা কেন?”

এবারও আনান্সি জানতো যে, সে যদি রান্না হবার জন্য অপেক্ষা করে, তাহলে বানর তাকে অবশ্যই কাজ দেবে, আর লোভী মাকড়সার কাজ করবার কোনো ইচ্ছেই নেই। তাই আনান্সি বানরকে বললো, “আমি খুব দুঃখিত প্রিয় বন্ধু,  কিন্তু আমাকে এখনি একটু কাজে যেতে  হবে। কেমন হয় যদি আমি এক লম্বা জাল বানাই আর তার এক প্রান্ত আমার পায়ের সাথে আর আরেক প্রান্ত তোমার রান্নার পাত্রের চারদিকে জড়িয়ে নিই?

তাহলে যখন মধু আর শিম রান্না হয়ে যাবে, তখন তুমি জালে টান দিতে পারবে আর আমি রাতের খাবারের জন্য দৌড়ে চলে আসবো।” 

বানর রাজি হয়ে গেলো, এটাতো বেশ  ভালো একটা বুদ্ধি, আর তাই সে আনান্সির জালের এক প্রান্ত তার পাত্রের চারদিকে বেঁধে বন্ধুকে বিদায় জানালো।

*

বাড়ি যাবার পথে আনান্সি আরো ছয়জন বন্ধুর সাথে দেখা করলো, তারা  সবাই তাদের সন্ধ্যার খাবার তৈরিতে ব্যস্ত ছিল। 

আর প্রতিবার দেখা করার সময় আনান্সি সেই পুরনো গল্প বললো এবং তাদের রান্নার পাত্রের জন্য জাল বুনলো। 

এবং আনান্সির মোট আটটি পা’ই লম্বা জাল দিয়ে বিভিন্ন পাত্রের সাথে যুক্ত হলো। 

লোভী মাকড়শা তার প্রতিটি বন্ধুর সাথে চাতুরি করে প্রত্যেকের পাত্র থেকেই খাবার চিন্তা করলো আবার তাতে যে কোনো কাজও এড়িয়ে যাওয়া গেল।

আনান্সি সব খাবারের জন্য খুব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল, বিশেষত শূকরের মিষ্টি আলু আর মধুর খাবার, যেগুলো সব সময় খুব দারুন স্বাদের রান্না  হয়।  

লোভী মাকড়শা ভাবলো, “আমি আসলেই এবার নিজেকে ছাড়িয়ে গেছি। কী পরিমাণ অসাধারণ খাবার আর তার বদলে কোনো কাজ করা থেকে এড়িয়ে গেলাম! কোন পাত্রের খাবার আগে তৈরী হবে দেখাই যাক!” 

*

তখনি আনান্সি তার এক পায়ের জালে টান অনুভব করলো। লোভী মাকড়শা ভাবলো, “এটা নিশ্চয়ই মজার সবজি নিয়ে  খরগোশ ডাকছে।”

কিন্তু তখনি  আনান্সির আরেক পায়ের জালে টান পড়লো। আনান্সি জোরে চেঁচিয়ে বললো, “চমৎকার! এটা নিশ্চয়ই  শিম আর মধুর পাত্র নিয়ে  বানর প্রস্তুত।”

এরপর আরেক পায়ে টান পড়লো! তারপর আরেকটা! এবং আরেকটা! 

এরপর আনান্সির আটটি পায়েই একই সাথে আট দিক থেকে টান পড়তে থাকলো।

আনান্সি টেনে হিঁচড়ে নদীর কাছে গিয়ে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়লো যাতে  তার সব জাল পা থেকে ধুয়ে যেতে পারে। জালগুলো তার পা থেকে একটা একটা করে খুলতে লাগলো, শেষে,  লোভী মাকড়শা নদীর তীরে উঠে আসতে পারলো। 

এরপর যখন আনান্সি সামলে নিয়ে নিজেকে শুকিয়ে নিল, তখন সে একটা খুব অদ্ভুত ব্যাপার খেয়াল করলো। 


তার আটটি পায়ের সবগুলোই লম্বা হয়ে গেছে। 

যেখানে আগে তার পা’গুলো  ছোট আর চওড়া ছিল, এখন তারা লম্বা আর সরু!

আনান্সি ভাবলো, “আহ! আমি কীভাবে এতো লোভী হতে পারলাম? এখন আমার এ কী হলো! আমার যে শুধু আটটা পা’ই সরু  হলো, তাই নয়, এখন আমাকে নিজের রাতের খাবার নিজেকেই বানাতে হবে।”

আর একারণেই আনান্সির আটটি সরু পা আছে। 

Enjoyed this story?
Find out more here