একটি হিন্দি গল্প

*
অনেককাল আগে, স্মরণকালেরও অতীতে হাতি উড়তে পারতো! তাদের চারটা বিরাট বিরাট পাখা ছিল আর তারা আকাশে এতো দ্রুত উড়ে যেতো যে অন্য প্রাণীরা অবাক হয়ে যেতো। তবে এই বৃহদাকার প্রাণীরা কখনো কখনো কিছুটা বোকামিও করতো। তবে শশশশশ … অন্য প্রাণীরা এ বিষয়ে চুপ করে থাকতো, কখনো কোনো আলোচনা করতো না ।
যেহেতু হাতি অনেক শক্তিশালী আর দ্রুতগামী, ঈশ্বর তাদের সাহায্য নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি এই বিরাট প্রাণীদের উপর চড়ে পৃথিবীর উপর শেষ আঁচড়টা বুলোতে পারবেন। এই এখন চীনে থাকলেন তো, চোখের পলকে আইসল্যান্ডে চলে যেতে পারবেন! আর এই হাতিরা এতো শক্তিশালী ছিল যে, তারা সব পাহাড় আর হিমশৈল ঠেলতে ঠেলতে পৃথিবীটা এক নিপুণ অবস্থানে নিয়ে এলো। উদাহরণস্বরূপ, তারা ঈশ্বরকে ভারতে হিমালয় আর তানজানিয়াতে কিলমাঞ্জারো স্থাপন করতে সাহায্য করলো।
এই হাতিদের পিঠে চড়েই ঈশ্বর পুরো পৃথিবী ঘুরে একে প্রায় পুরোপুরি নিখুঁত করে তুললেন।
এই বিরাট কাজ শেষ হবার পর ঈশ্বর হাতিদের বললেন যে, তারা এখন চিরস্থায়ী ছুটি নিতে পারে। যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের অন্য কোনো নতুন কাজ আসে।
এখন আর করার মতো হাতিদের অতো বেশি কাজ নেই । এরপর কী হলো জানো? হাতিরা অলস হয়ে পড়লো আর পুরনো দিনের কথা বলে সময় কাটাতে লাগলো। তারা কতো শক্তিশালী ছিল সেটা নিয়ে তারা কথা বলতো। তারা আলোচনা করতো যে তারা কতো দ্রুতগামী ছিল আর ঈশ্বর তাদের কতো পছন্দ করতেন। আর তারা যতো একথাগুলো বলতো, তারা নিজেদের পৃথিবীর অন্য সকল প্রাণীদের থেকে অনেক অনেক চৌকষ হিসাবে ভাবতে থাকলো।
অবশ্যই তারা সবার থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল!
হাতিরা অলস ভাবে একে অপরের সাথে কথা বলতো, “ময়ূরের দিকে দেখো, তার বাদামী পাখা আমাদের তুলনায় কেমন কদাকার বাদামি দেখতে!” আর তারা সব সময় গলা চড়িয়ে কথা বলতো যেন ছোট্ট ময়ূর তাদের সব নিষ্ঠুর মন্তব্যগুলি শুনতে পায়।
আর বেচারা ময়ূর ছিল ভদ্র আর দয়ালু, সেও হাতিদের কথা সমর্থন না করে পারতো না । ও ভাবতো, “হাতিরাই ঠিক। আমি ছোট। আমার পাখা পরীদের মতো অতো সুন্দর নয়, না, আমি হাতিদের মতো অতো শক্তিশালী।”
সময় যতো বয়ে চললো, হাতিরা নিজেদের নিয়ে অহংকার করতে শুরু লাগলো। তারা ভাবতে লাগলো যে, তারা যা খুশি তাই করতে পারে। লোভী হাতিগুলো কলাগাছ থেকে অন্য প্রাণীদের জন্য কোনো কলা না রেখে, সব কলা নিয়ে নিত। অন্য প্রাণীদের মন খারাপ হতো কারণ তারা খাবার জন্য একটা কলাও পেতোনা। আর হাতিগুলো তাদের শুঁড়ে কলা নিয়ে কী করতো জানো?
হাতিরা গ্রামে নেমে আসতো- যে কোনো গ্রামে, তাদের পছন্দ মতো - আর তারা তাদের পাখাগুলি গালিচার মতো করে ছড়িয়ে দিয়ে বনভোজন করতে বসে পড়তো। পুরো গ্রাম হাতিগুলোর ওজনের চাপে পিষে যেতো। সব বাড়ি মাটিতে চ্যাপ্টা হয়ে যেতো, ক্ষেতগুলি নষ্ট হয়ে যেতো আর গ্রামবাসীরা খুব মন খারাপ করতো।
গরিব গ্রামবাসীরা তাদের বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ায় খুব রেগে গেলো , সাথে তাদের প্রাণীগুলোও ক্ষিধের জ্বালায় রেগে ছিল। তাই ঈশ্বর সিদ্ধান্ত নিলেন যে, যথেষ্ট হয়েছে। এই অহংকারী আর লোভী হাতিগুলো তাদের শুঁড়ের চেয়েও অনেক বাড় বেড়েছে আর এদের একটা শিক্ষা দেয়া দরকার।
ঈশ্বর সব হাতিদের, কথা বলবার জন্য ডাকলেন। তিনি তাদের বললেন, “হে শক্তিশালী হাতিরা, আমার কথা শোনো। আমাকে এই পৃথিবী নিখুঁত করে বানাতে সাহায্য করবার জন্য আমি তোমাদের কাছে কৃতজ্ঞ। তাই আমি এক ভোজের আয়োজন করতে চাই। শুধুমাত্র হাতিদের জন্য।”
হাতিরা সব খুব খুশি । একটা হাতি আরেকটা হাতিকে বললো, ”দেখো! ঈশ্বর পর্যন্ত বলছেন আমরা কতোটা শক্তিশালী আর সাহসী, আমরা তাঁকে কতোটা সাহায্য করেছি। ঠিকই আছে, শুধুমাত্র আমাদের জন্য তাঁর একটা ভোজসভার আয়োজন করা উচিত!”
তাই লোভী হাতিরা, অহংকার আর আত্মবিশ্বাসে ফুলে ফেঁপে, একজন একজন করে ভোজে আসতে থাকলো। প্রতিজ্ঞামতো ঈশ্বর সেরা সব খাবারের পাহাড় পরিবেশন করলেন! উজ্জ্বল হলুদ কলা, টকটকে লাল ডালিম, সুগন্ধি পেয়ারা, রসালো আম … যতো রকমের ফল কল্পনা করতে পারো, সব সেখানে ছিল।
লোভী হাতিগুলো খুব খুশি। আর তারা সব খেলো, একেবারে শেষ দানা পর্যন্ত।
খাবার শেষে তাদের পেট এতো বেশি ভরে গেল যে, তারা একে একে ঘুমিয়ে পড়তে থাকলো, আশেপাশে ফেলে দেয়া কলার আর আমের খোসা পড়ে রইলো। ঈশ্বর এই মূহুর্তের জন্যই অপেক্ষা করছিলেন। শেষ হাতিটি যখন চোখ বুজলো, ঈশ্বর অনেক বড় একটা ছুরি বের করলেন। তিনি নিঃশব্দে প্রতিটি হাতির কাছে গিয়ে তাদের পাখা কেটে ফেললেন। তারপর সেই সুন্দর পাখাগুলো ছোট্ট ময়ূরদের দিলেন। ছোট্ট ময়ূরগুলো এতো খুশি হলো যে, তারা দৌড়ে বনে গান আর নাচ করতে গেলো ।

কখনো কি দেখেছ ময়ূর নাচতে, ময়ূর নাচতে, ময়ূর নাচতে?
কখনো কি দেখেছ ময়ূর নাচতে, গাছের চারিদিকে?
হ্যাঁ, আমি দেখেছি ময়ূর নাচতে, ময়ূর নাচতে, ময়ূর নাচতে।
হ্যাঁ, আমি দেখেছি ময়ূর নাচতে, গাছের চারিদিকে।
*
এবার হাতিদের কথা ভাবো।
যখন হাতিরা তাদের লম্বা ঘুম থেকে অবশেষে উঠলো, তাদের দেখিয়ে দেখিয়ে ময়ূরদের চমৎকার পাখার ঝটপটানি তাদের বিরাট বড় এক ধাক্কা দিল। তারা সত্যি সত্যি খুব রেগে গেল। কিন্তু তাদের অভিযোগ শুনতে ঈশ্বরের বিন্দুমাত্র সময় নেই । বরং তিনি বললেন, “আমি চাই তোমরা হাতিরা আরো ভদ্র আর দয়ালু হও। আমি চাই তোমরা তোমাদের শক্তি দিয়ে গ্রামবাসীদের তাদের ঘরগুলি আবার তৈরি করতে সাহায্য করো।”
হাতিগুলো তাদের কৃতকর্মের জন্য খুব লজ্জা পেলো। তারা সাধ্যমতো গ্রামবাসীদের সাহায্য করতে রাজি হলো। তাই আজ পর্যন্ত, প্রতিটা গ্রামেই হাতি থাকে যারা আসতে যেতে মানুষদের সাহায্য করে।
Enjoyed this story?