KidsOut World Stories

জোহা ও তার গাধা Jawaher Mutlaq Alotaibi    
Previous page
Next page

জোহা ও তার গাধা

A free resource from

Begin reading

This story is available in:

 

 

 

 

জোহা ও তার গাধা 

 

 

 

 

 

 

 

একদা জোহা তার পালিত গাধার পিঠে চড়ে হাটে যাচ্ছিল। পাশে তার ছেলে গাধার লাগামটি ধরে বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলতে হাঁটছিল। যে পথ দিয়ে পিতা পুত্র হেঁটে যাচ্ছিল, সেই পথেরই একধারে কিছু লোক তাদের দেখতে পেয়ে বৃদ্ধ জোহাকে সমলোচনা করে বলল: ‘তুমি এতটা হৃদয়হীন হলে কী করে? যখন তোমার ছেলে হেঁটে চলেছে তখন তুমি কোন মুখে দিব্যি গাধার পিঠে চড়ে যাচ্ছ? এ সব কথা শুনে জোহা গাধার পিঠ থেকে নেমে সে যেখানে বসেছিল সেখানে তার ছেলেকে বসিয়ে দিল। হাটের পথে জোহা এবং তার ছেলের আবার চলা শুরু। গাধার পাশে লাগামটি ধরে হেঁটে যান জোহা।

এই ভাবে পরে এক মাইল পথ যাবার পর জোহা একটা কুয়োর ধারে কয়েকজন মহিলাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল। মহিলার ওদের দেখে (খুবই) অবাক হল। তারা জোহাকে প্রশ্ন করল, "এটা কেমনতর যে একজন বৃদ্ধ মানুষ হেঁটে হেঁটে যাচ্ছেন আর তার ছেলে গাধার পিঠে চড়ে চলেছেন? অব্যশই এটা মোটেই ঠিক হচ্ছে না। এই শুনে জোহা গাধার পিঠে উঠে ছেলের পাশে বসে পথ চলা শুরু করল। সময়টা তখন মধ্যাহ্ন পেরিয়েছে। আর মাথার উপর প্রখর রৌদ্রের গরমের মধ্যে তার ঐ ভাবে হাটের পথে চলতে থাকল।

পিতা পুত্র দুজনের ভাব বহনের জন্য গাধাটি একটু ধীরে চলছিল। তবে তাদের দেখে কেউ সমলোচনা না করলেও শহর পর্যন্ত হাটের কাছে জমায়েত থাকা কিছু মানুষের এটা নজর এড়াল না। দুজনকে বসে থাকার ব্যাপারটা তার ভাল ছকে দেখল না। তার জোহাকে লক্ষ্য করে ক্রুদ্ধস্বরে প্রশ্ন করল, “তোমরা কী করে ওই ছোট গাধাটির পক্ষে খুবই বেশি?” একথা শুনে জোহা তার ছেলেকে বলল, “আমার মনে হয় আমাদের দুজনেরই গাধার পিঠ থেকে নেমে পড়া সবচেয়ে ভাল। তা হলে কেউ আর আমাদের কিছু বলতে পারবে না”। এই বলে তারা গাধার পিঠ থেকে নেমে পড়ল। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে জোহা গাধাটির লাগাম ধরে ছেলের সাথে গ্রামের ভিতরে হাটের উদ্দেশ্যে রওনা হল।

কিন্তু জোহা ঐ স্থানে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু লোক তাকে নিয়ে ঠাট্টা-মস্করা করতে শুরু করল। বৃদ্ধ জোহাকে দেখিয়ে তার বলতে লাগল, “দেখ, লোকটা কী বোকা! ওর সঙ্গে একটা গাধা থাক সত্ত্বেও তাতে না চড়ে, বাবা-ছেলে কেমন হাঁটতে হাঁটতে যাচ্ছে।
এই সব কথায় জোহা কিন্তু মোটেই ক্রুদ্ধ হয়নি, বরং সে মনে করল সব মানুষকে সব সময় সন্তুষ্ট করা যায় না। সে জন্য প্রত্যেককে নিজের মত করেই বাঁচতে শেখা উচিত।

Enjoyed this story?
Find out more here