একজন ভালো বন্ধু
A free resource from
KidsOut - the fun and happiness charity
This story is available in:
This story is available in:
ইংরেজি গল্প

*
ইয়াসিনের পরিবার ইরাক থেকে ইংল্যান্ডে চলে আসে যখন সে ছোট ছিল। ইয়াসিন সামারায় তার বাড়ি ছেড়ে যেতে চায়নি, কিন্তু তার বাবা বলেছিলেন যে পরিবারের পক্ষে এটি সবচেয়ে ভাল কারণ সেখানে আর বসবাস করা নিরাপদ নয় এবং তিনি চেয়েছিলেন যে তার ছেলে এমন একটি দেশে বেড়ে উঠুক যা সবধরণের লোককে গ্রহণ করে। ইয়াসিনের বাবা তার ছেলেকে বলেছিলেন যে ইংল্যান্ড একটি বহুসংস্কৃতির দেশ যেখানে জাতি বা ধর্মীয় বিশ্বাস নির্বিশেষে মানুষ একসাথে বসবাস করছে এবং একসাথে কাজ করছে।
যদিও ইয়াসিন ইরাক ছেড়ে চলে যাওয়ার ব্যাপারে খুশি ছিল না, তবে শীঘ্রই সে লন্ডন নামে একটি বড় শহরে তার নতুন জীবন শুরু করেছিল। লন্ডন তার উঁচু বাড়ী আর যাদুঘরগুলো নিয়ে তার কাছে খুব সাথে খুব উত্তেজনাপূর্ণ মনে হয়েছিল, এবং ইয়াসিন বিশেষ করে লন্ডন প্ল্যানেটোরিয়াম এবং সবগুলো পুরানো সেতুসহ বড় টেমস নদীকে পছন্দ করেছিল।
এমনকি ইয়াসিন পাশের বাড়িতে বসবাসকারী একটি ছেলের সাথে বন্ধুত্বও করেছিল, যার নাম অ্যান্ড্রু। সারা গ্রীষ্ম জুড়ে, অ্যান্ড্রু এবং ইয়াসিন পার্কে খেলে বা অ্যান্ড্রুর মায়ের সাথে চিড়িয়াখানায় যায়। অ্যান্ড্রু ইয়াসিনের সাথে তার খেলনা এবং তার কমিকস শেয়ার করে নিয়েছিল এবং তাকে তার প্রিয় সুপারহিরোদের সম্পর্কে সমস্ত কিছু বলেছিল। এমনকি তারা ইয়াসিনের পিছনের বাগানে একটি ক্যাম্পও তৈরি করেছিল যেখানে তারা বড়দের কাছ থেকে লুকিয়ে থাকত।
গ্রীষ্মকালটি একটি মজার সময় ছিল এবং তরুণ ইয়াসিন শীঘ্রই লন্ডনকে তার নিজের বাড়ির মত বেশ অনুভব করেছিল, যদিও এটি একটি খুব বড় শহর ছিল এবং সামারার মত প্রায় ততটা রৌদ্রোজ্জ্বল এবং গরম ছিল না। তার ইংরেজি আরও ।ভালো হয়ে ওঠেছিল, বিশেষ করে অ্যান্ড্রুর সহায়তায়, যদিও এমন অনেক শব্দ ছিল যা ইয়াসিন বুঝতে পারত না এবং সে প্রায়ই নিজেকে বোকা বোকা করত কারণ সে যতটা চায় ততটা ভাল কথা বলতে পারত না।
তারপর যখন সেপ্টেম্বর এলো এবং গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়তে শুরু করল, ইয়াসিনের বাবা বললেন যে তার ছেলের স্কুলে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। ইয়াসিনের বয়স তখন সাত বছর, তাই সে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীতে যাবে - একই বছর তার বন্ধু অ্যান্ড্রুর মত!
যদিও ইয়াসিন স্কুলে যাওয়ার বিষয়ে খুব নার্ভাস ছিল, তার বাবা এবং মা তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে এটি একটি মজার জায়গা হবে যেখানে সে অনেক নতুন বন্ধুদের সাথে দেখা করবে এবং অনেক আকর্ষণীয় নতুন জিনিস শিখবে।
ইয়াসিনের মা বললেন, 'ইংরেজি স্কুলগুলো খুব ভালো হওয়ার কথা।'
'এবং তোমার ইংরেজি খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভাল হয়ে যাবে,' তার বাবা আশ্বাস দিয়েছিলেন।
ইয়াসিন তখনও নিশ্চিত ছিল না, কিন্তু সেদিন সকালে অ্যান্ড্রু যখন দরজায় কড়া নাড়ল, তখন তার মুখে একগাল হাসি নিয়ে বলেছিল যে স্কুলে এটি কতটা মজার হতে চলেছে, ইয়াসিন তার বন্ধুর উপর আস্থা রাখার কারণে অনেক ভাল বোধ করেছিল।
এই দুইজন ছেলে স্কুলের গেট পর্যন্ত পুরো পথ জুড়ে কথা বলছিল। অ্যান্ড্রু ইয়াসিনকে খেলার মাঠ সম্পর্কে বলেছিল এবং কে সেরা শিক্ষক ছিলেন এবং কোন ছেলেরা সবচেয়ে মজার ছিল এবং কোন মেয়েরা সুন্দর ছিল এবং কিভাবে তারা প্রায়শই মধ্যাহ্নভোজের সময় পুডিংয়ের জন্য কাস্টার্ড পরিবেশন করে। ইয়াসিন জানত না কাস্টার্ড কি, তবে অ্যান্ড্রুকে এটি সম্পর্কে খুব উত্তেজিত লাগছিল তাই ইয়াসিন ভেবেছিল যে এটির স্বাদ খুব ভাল হতে পারে।
কিন্তু ছেলেরা যখন তাদের ক্লাসে পৌঁছল, তখন ইয়াসিন যেভাবে কল্পনা করেছিল, তা হয়নি। বাকি শিশুদের সঙ্গে ইয়াসিনের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় অ্যান্ড্রুকে ক্লাসের সামনের দিকে বসতে বলেন ওই শিক্ষক। ক্লাসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তার পছন্দ ছিল না এবং একটি ছেলে চিৎকার করে বলেছিল যে সে বিদেশী আর গায়ে বোঁটকা গন্ধ। ছেলে-মেয়েরা সবাই হেসে উঠল, তারপর অন্য একটি ছেলে ইয়াসিনের উচ্চারণ নিয়ে মজা করল যখন তাকে তার নাম এবং সে কোথা থেকে এসেছে তা বলতে বলা হয়েছিল।
'আমি তাকে বুঝতে পারি না, মিস। সে ইংরেজিতেও কথা বলতে পারে না,' বলল দুষ্টু ছেলেটি।
অবশেষে, ইয়াসিনকে ক্লাসের পিছনে বসতে দেওয়া হয় কিন্তু তার ইচ্ছা ছিল যে সে অ্যান্ড্রুর পাশে বসে থাকুক কারণ সে খুব একা অনুভব করছিল।তার পাশে বসা মেয়েটি তার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকাতে থাকে যা ইয়াসিনকে অস্বস্তিকর করে তোলে এবং পড়ার সময় সে তার হাত উপরে তুলে শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করে সে জায়গা পরিবর্তন করতে পারে কিনা।ইয়াসিন বুঝতে পারেনি সে মেয়েটিকে রাগ করার জন্য কি করেছে।
বেল বাজার সাথে সাথে খেলার মাঠে যাওয়ার সময় হয়ে গেল। সমস্ত বাচ্চারা তাদের বই বন্ধ করে দিল, তাদের কোট পরে এবং দরজা থেকে বেরিয়ে উজ্জ্বল শরতের সূর্যের আলোতে চলে গেল। শিক্ষক ইয়াসিনকে এক মুহুর্তের জন্য ডেকেছিলেন এবং তাকে তার নাম সহ একটি ব্যাজ দিয়েছিলেন যার উপর তিনি তার জাম্পারের সাথে পিন করেছিলেন।
'ওখানে তুমি যাও,' তিনি হাসতে হাসতে তাকে বলল।'এখন সব বাচ্চারা তোমার নাম জানতে পারবে।'
ইয়াসিন ভেবেছিল যে ব্যাজটি পরায় তাকে বোকা বোকা দেখাচ্ছে, এবং যখন সে খেলার মাঠে চলে গেল তখন সমস্ত বাচ্চারা ইশারা করে হাসতে শুরু করল।
'তুমি একটি মেয়েদের নাম পেয়েছ,' সোনালী কোঁকড়া চুলের একটি ছোট ছেলে বলল।
ইয়াসিন বোঝাতে চেয়েছিল যে এটি কোনও মেয়ের নাম নয় তবে সে খুব নার্ভাস ছিল। ইয়াসিন যখন নার্ভাস হয়ে পড়ে, তখন তার ইংরেজি খুব একটা ভালো ছিল না এবং কথাগুলো সব সময় তার গলায় আটকে থাকত। সে খুব দু:খিত ছিল এবং খেলার মাঠ থেকে তার মা এবং বাবার কাছে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল এবং আর কখনও স্কুলে ফিরে আসতে চায়নি। কিন্তু সে যখন দৌড়াতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই সে একটি পরিচিত কণ্ঠস্বর শুনতে পেল।
'হাই ইয়াসিন।' এবং যখন সে তাকাল তখন অ্যান্ড্রু তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।
অ্যান্ড্রু চারপাশে জড়ো হওয়া বাচ্চাদের দিকে তাকাল এবং মাথা নাড়ল। 'তোমার এত কি হয়েছে ?' সে জিজ্ঞাসা করল। 'আমি আমার বন্ধু ইয়াসিনকে বলেছিলাম যে স্কুলটি মজার ছিল। তুমি কেন তার জন্য এটা নষ্ট করছ?'
'সে আলাদা,' ভিড়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি খুব লম্বা মেয়ে বলল।
অ্যান্ড্রু বলল, 'তুমিও তাই। তুমি পুরো স্কুলের সবচেয়ে লম্বা মেয়ে এবং লোকেরা যখন তোমাকে নিয়ে মজা করে তখন তুমি এটি পছন্দ কর না, তাই না?'
তারপর অ্যান্ড্রু কোঁকড়ানো চুলের ছেলেটির দিকে তাকাল। 'এবং যখন লোকেরা বলে যে তোমার মেয়ের মত চুল আছে তখন তুমি সেটা পছন্দ কর না,' সে ছেলেটিকে বলল। 'আমরা সবাই আলাদা এবং এটাই আমাদের আকর্ষণীয় করে তোলে। জীবনটা কেমন হত যদি আমরা সবাই একে অপরের মত হতাম?'
শিশুদের মধ্যে নীরবতা বিরাজ করছিল।
তখন ইয়াসিন মাথা উঁচু করে। 'বোরিং,' হাসি দিয়ে বলল সে।
ঠিক বলেছ!' অ্যান্ড্রু তার বন্ধুর হাসি ফিরিয়ে দিয়ে চিৎকার করে উঠল। 'সত্যিই বোরিং!'
এবং সেই সাথে বাচ্চারা সবাই হাসতে শুরু করলো।
'সত্যিই বোরিং,' তারা একে অপরের দিকে চিৎকার করে উঠল।
অ্যান্ড্রু ব্যাখ্যা করেছিল যে কিভাবে সে ইয়াসিনের সাথে গ্রীষ্মকাল কাটিয়েছিল, কিভাবে তারা একসাথে একটি ক্যাম্প তৈরি করেছিল এবং পার্কে খেলেছিল, এবং কিভাবে ইয়াসিন ব্যাটম্যানকে সুপারম্যানের চেয়ে বেশি পছন্দ করেছিল এবং কিভাবে সে সত্যিই আলাদা ছিল কারণ সে হটডগ পর্য্যন্ত পছন্দ করত না!
বাচ্চারা সবাই আরও কিছুক্ষণ হাসল এবং শীঘ্রই সবাই এমন সমস্ত জিনিস সম্পর্কে কথা বলছিল যা তাদের একে অপরের থেকে আলাদা করে তোলে। পিটার জেনকিন্স তার জাম্পারটি তুলেছিল এবং সবাইকে তার পেটের সামনে একটি বড় বেগুনি রঙের জন্মচিহ্ন দেখিয়েছিল।
'এখন এটাকেই আমি আলাদা বলে থাকি,' সে বিজয়ীর বেশে বলল। 'আমি বাজি ধরে বলতে পারি, তোমাদের মধ্যে কারোরই আমার মত বড় জন্মচিহ্ন নেই!'
বিরতির সময় শেষ হলে, অ্যান্ড্রু ক্লাসে তার হাত তুলে শিক্ষককে প্রস্তাব দিয়েছিল যে তাদের পড়ানোর বিষয় এটা হওয়া উচিত যে বিষয়টা কতটা দুর্দান্ত ছিল যে প্রত্যেকে অন্য সবার থেকে আলাদা ছিল এবং কিভাবে লোকেরা সারা বিশ্ব থেকে ইংল্যান্ডে এসেছিল। তার বন্ধু ইয়াসিনের মত নতুন জীবন শুরু করার জন্য।
শিক্ষক মেনে নিয়েছিলেন যে একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, এবং তিনি আরও বলেছিলেন যে সেটি কতটা চমৎকার ছিল যে পুরো ব্রিটেন এমন একটি বহুসংস্কৃতির দ্বীপ ছিল। ইয়াসিন তার বইয়ে এই দুটি শব্দ লিখেছিল এবং নিজে প্রতিজ্ঞা করেছিল যে সে এগুলো উভয়ই শিখবে এবং তাদের সমসময় মনে রাখবে। 'বন্ধু' শব্দটিও সে লিখেছে তাঁর বইয়ে। সে ইতিমধ্যে জানত যে এর অর্থ কি, তবে সে কেবল এটি লিখতে চেয়েছিল কারণ সে অ্যান্ড্রুর মত একজন ভাল বন্ধু পেয়ে খুব ভাগ্যবান বোধ করেছিল যে মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল এবং তাদের বিচার করেনি কারণ তারা ভিন্ন ছিল।
Enjoyed this story?