হরিণ এবং জাগুয়ার
A free resource from
KidsOut - the fun and happiness charity
This story is available in:
This story is available in:
একটি ব্রাজিলীয় গল্প

*
হরিণ বনের ধারের বড় নদী ধরে হাঁটছিল। “আহ, কেমন জীবন পেলাম আমি? কোনো বাড়ি নেই। হয়তো আমি নিজের জন্য একটি বাড়ি বানিয়ে নেব। এটাই অন্য যে কোনো জায়গার মতো বেশ ভালো একটি জায়গা।
হরিণ চলতে থাকলো।
বনের দিকে পা টিপে হাঁটতে হাঁটতে বড় নদীর ধারে জাগুয়ার এলো। সেও একই জায়গায় চলে এলো; “আহ, কেমন জীবন পেলাম আমি? হয়তো কোনো একদিন আমি থিতু হবো আর নিজের জন্য একটি বাড়ি বানিয়ে নেব। এটাই অন্য যে কোনো জায়গার মতো বেশ ভালো একটি জায়গা।”
এবং জাগুয়ার চলতে থাকলো।
হরিণ ফিরে এলো, এবং তার সূক্ষ্ম শিং দিয়ে ঝোপ ঝাড় পরিষ্কার করে নিল, গাছপালা পরিষ্কার করে বাড়ির জন্য জমি তৈরী করে নিল এবং তারপর বনের দিকে চলে গেল।
এবার জাগুয়ার এলো: “এটাই সেই জায়গা যেখানে আমি আমার বাড়ি তৈরি করতে চেয়েছিলাম, এর মেঝে ভালো মতো পরিষ্কার করে সমান করে নেয়া হয়েছে।নিশ্চয়ই টুপান দেবতার আশীর্বাদ রয়েছে এতে। আমি এখানেই আমার বাড়ি বানাব।” এবং জাগুয়ার উৎসাহের সাথে জমি সমান আর মসৃণ করে নিজের জন্য মেঝে তৈরি করে নিল - তার দাঁত মেঝেটিকে শক্ত এবং চকচকে করতে সাহায্য করলো - এবং তারপর সে আবার বনের দিকে চলে গেল।
হরিণ ফিরে এলো: “চকচকে এবং শক্ত মেঝে তৈরি করা হয়েছে। নিশ্চিতভাবেই টুপান দেবতা আমাকে সাহায্য করছে।” এবং নতুন উদ্যম নিয়ে হরিণ বাড়ির দেয়াল তৈরি করে নিল। কাজ শেষ করে সে বনের দিকে চলে গেল।

এবার জাগুয়ার এলো: “টুপান দেবতা আমার বাড়ির জন্য দেয়াল তৈরি করে দিয়েছেন। এবার আমি ছাদ বানিয়ে নেব।” এবং শক্তিশালী জাগুয়ার ছাদ বানিয়ে নিল। কাজ শেষ করে সে বনের দিকে চলে গেল।
হরিণ দেখলো যে তার ছাদ তৈরি করে দেয়া হয়েছে: “টুপান অবশ্যই আমাকে আশীর্বাদ করেছে।”
হরিণ বাড়ির ভেতর দুটো কামরা তৈরি করলো: একটা নিজের জন্য, আরেকটা টুপানের জন্য। অন্ধকার ঘনিয়ে আসায় সে এক কামরায় ঢুকে বিশ্রাম নিল এবং ঘুমিয়ে নিল।
এবার জাগুয়ার ফিরে এসে দেখলো বাড়িটিতে দুটো কক্ষ রয়েছে: “টুপান আমার সাথে বাড়িটি ভাগাভাগি করে নেবার জন্য নিজের একটা কক্ষ বানিয়েছে।”
সে অন্য কক্ষটিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।
হরিণ এবং জাগুয়ার একই বাড়িতে সেই রাতটি ঘুমিয়ে কাটালো। ভোরে দুজনেই উঠে পড়লো।
হরিণ জাগুয়ারকে দেখতে পেল। জাগুয়ার হরিণের দিকে চেয়ে রইল: “তুমি কি বাড়ি বানাতে আমাকে সাহায্য করেছ?”
“হ্যাঁ, তুমি কি বাড়ি বানাতে আমাকে সাহায্য করেছ?”
“হ্যাঁ।”
এরপর থেকে জাগুয়ার আর হরিণ মিলে মিশে এক সাথে বাড়িটিতে ভাগাভাগি করে থাকতে লাগলো … অল্প কিছু দিনের জন্য।

জাগুয়ারের খিদে পেয়ে গেলো: “আগুন জ্বালো। পানি ফুটানোর জন্য হাড়ি বসাও। আমি শিকার করতে যাচ্ছি।” জাগুয়ার বাড়ি থেকে বেরোলো আর হরিণ আগুণ জ্বালিয়ে তার ওপর ফুটন্ত পানির হাড়ি বসিয়ে দিল।
জাগুয়ার এক হরিণ খুঁজে ধরে শিকার করলো। সে এটিকে বাড়িতে নিয়ে এলো। সে হরিণটিকে রান্না করতে শুরু করলো। জাগুয়ার কী রান্না করছে দেখতে পেয়ে হরিনের মনটা খারাপ হয়ে গেলো।
জাগুয়ার খেতে শুরু করলো। হরিণ ভয় পেয়ে গেল এবং কিছু খেলনা। হরিণ তার ঘরে ফিরে গিয়ে ঘুমোনোর চেষ্টা করলো।
জাগুয়ার নিজের কক্ষে ফিরে গেল।
হরিণ সারারাত ধরে চোখ খোলা রাখলো এই ভয়ে যে, জাগুয়ার এসে তাকে খেয়ে ফেলবে।
*
সকালবেলা হরিণ জাগুয়ারকে বললো: “আগুন জ্বালো। হাড়ি বসাও। পানি ফুটাও। আমি শিকারে যাচ্ছি।”
হরিণ বনে গেল। সেখানে গাছের ছালে একটা জাগুয়ার তার থাবায় শান দিচ্ছিল। হরিণ পিঁপড়াভুক তামান্দুয়াকে না পাওয়া পর্যন্ত চলতে থাকলো।
“ওই জাগুয়ার তোমার সম্পর্কে বাজে কথা বলেছে।”

তামান্দুয়া রেগে গেল। সে গিয়ে তার শক্তিশালী আর ধারালো থাবা দিয়ে জাগুয়ারটিকে মেরে ফেললো। জাগুয়ার মারা যাবার পর তামান্দুয়া চলে গেল। হরিণ মৃত জাগুয়ারটিকে বাড়ি নিয়ে এলো।
হরিণ কী রান্না করছে দেখতে পেয়ে জাগুয়ার ভয় পেয়ে গেল। সে হরিণকে খাবার খেতে দেখে সহ্য করতে পারবে না বলে নিজের কক্ষে ফিরে গেল। তবে তুমি তো জানোই, হরিণ জাগুয়ারের মাংস খায় না।
হরিণ এরপর নিজের কক্ষে ফিরে গেল। সে ঘুমোতে পারলো না। হরিণ ভয় পাচ্ছিল যে জাগুয়ার রাতে এসে তাকে খেয়ে ফেলবে।
জাগুয়ার ঘুমোতে পারলো না। সে ভয় পাচ্ছিল যে হরিণ রাতে এসে তাকে খেয়ে ফেলবে।
হরিণ অবশেষে ঝিমোতে শুরু করলো এবং ঘুমিয়ে পড়লো। তার ঝিমোনো মাথা আর তার শিং দেয়ালের সাথে লেগে জোরে আওয়াজ করে উঠলো। হরিণ তাকে আক্রমণ করতে আসছে ভেবে জাগুয়ার ভয় পেয়ে জেগে উঠলো। সে জোরে চিৎকার করে উঠলো।
হরিনের মনে হলো যে জাগুয়ার তাকে মারতে আসছে ।
হরিণ বাড়ি থেকে পালিয়ে গেল! জাগুয়ার বাড়ি থেকে পালিয়ে গেল!
তারা দুজন দুজনের উল্টো দিকে দৌড়ে পালাল। এরপর থেকে জাগুয়ার আর হরিণ কখনো এক সাথে থাকেনি।